চট্টগ্রাম   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬  

শিরোনাম

ফেসবুক থেকে সংবাদ: কেন যাচাই জরুরি 

আবদুল্লাহ মজুমদার :    |    ০৮:১০ পিএম, ২০২৬-০৪-২৩

ফেসবুক থেকে সংবাদ: কেন যাচাই জরুরি 

ডিজিটাল সময়ের এক বহুল উচ্চারিত প্রশ্ন—Facebook-এ কেউ কিছু লিখলেই গণমাধ্যম কেন তা সঙ্গে সঙ্গে সত্য বলে মেনে নেয় না? কে তাদের এমন সংযত থাকতে বলেছে? বাস্তবতা হলো, গণমাধ্যমকে “অস্বীকার” করতে কেউ নির্দেশ দেয় না; বরং তাদের পেশাগত নীতি, তথ্য যাচাইয়ের কঠোর বাধ্যবাধকতা এবং আইনি দায়বদ্ধতাই এই সংযম তৈরি করে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কোনো তথ্য যত দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ুক না কেন, তা সংবাদ হয়ে ওঠার আগে যাচাইয়ের কঠিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য—এটাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত।
আজ তথ্যের গতি অভূতপূর্ব। একটি পোস্ট, একটি ছবি, একটি ভিডিও কিংবা একটি লাইভ সম্প্রচার—মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় হাজারো, কখনো লক্ষ মানুষের কাছে। এই গতি যেমন তথ্যপ্রাপ্তিকে সহজ করেছে, তেমনি তৈরি করেছে বিভ্রান্তির ঝুঁকি। কারণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য সবসময় নির্ভুল হয় না; বরং অনেক ক্ষেত্রেই ভাইরাল হওয়াটাই হয়ে ওঠে তার একমাত্র পরিচয়। ফলে “ভাইরাল” এখন আর সত্যের সমার্থক নয়; বরং অনেক সময় তা সন্দেহের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশন করে না; তারা তথ্য যাচাই করে, প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করে এবং দায়িত্বের সঙ্গে তা উপস্থাপন করে। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যে ঘাটতিগুলো সাধারণত থাকে—সময়ের সুনির্দিষ্টতা, স্থানের নিশ্চিততা, প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ও নির্ভরযোগ্য উৎস—গণমাধ্যম সেই ঘাটতিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করে। ফলে একটি পোস্ট সরাসরি সংবাদে পরিণত না হওয়া কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং সেটিই পেশাগত সততা ও শক্তির পরিচায়ক।
সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি—“যাচাই ছাড়া প্রকাশ নয়”—ডিজিটাল যুগে এসে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এখন গুজব ছড়ানোর মাধ্যম যেমন সহজলভ্য, তেমনি তার প্রভাবও বিস্তৃত ও দ্রুত। একটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ কেবল তথ্যগত ত্রুটি নয়; এটি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, সামাজিক বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমনকি কখনো কখনো সামাজিক অস্থিরতার জন্মও দিতে পারে। এই বাস্তবতায় গণমাধ্যমের প্রতিটি প্রকাশ হয়ে ওঠে একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশে এই পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ববোধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে Press Council Bangladesh। তাদের নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—অপ্রমাণিত, গুজবনির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্ট যতই আলোচিত বা ভাইরাল হোক না কেন, তা যাচাই ছাড়া সংবাদ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কোনো বিধিনিষেধ নয়; বরং একটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, যা সত্য ও অসত্যের মাঝে সুস্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়।
তবে এটিও সত্য যে সামাজিক মাধ্যম এখন অনেক সময় বড় ঘটনার প্রাথমিক সূত্র হিসেবে কাজ করে। কোনো দুর্ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা জনদুর্ভোগের প্রথম চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই সামনে আসে সাধারণ মানুষের পোস্টের মাধ্যমে। গণমাধ্যম সেই তথ্যকে অবজ্ঞা করে না; বরং গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে, কিন্তু সরাসরি বিশ্বাস করে না। সেটিকে অনুসন্ধানের সূচনা হিসেবে ধরে নিয়ে তারা মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেয় এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একটি তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদে রূপান্তরিত হয়।

ডিজিটাল এই বাস্তবতায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভূমিকাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি শেয়ার, একটি মন্তব্য কিংবা একটি ফরওয়ার্ড—সবকিছুই এখন তথ্যপ্রবাহের অংশ। ফলে যাচাইহীন তথ্য ছড়ানো যেমন সহজ, তেমনি সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করাও সম্ভব। তথ্যের এই যুগে প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে “মাধ্যম”—এটি অনুধাবণ করা জরুরি।
গণমাধ্যমের এই সংযম কোনো দুর্বলতা নয়, কোনো চাপের ফলও নয়; বরং এটি একটি সুসংহত পেশাগত অবস্থান। কারণ সত্য কখনো তাড়াহুড়ো করে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যাচাই, প্রমাণ এবং দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। আর সেই পথেই এগোতে চায়  দায়িত্বশীল গণমাধ্যম—যেখানে দ্রুততার চেয়ে নির্ভুলতাই বড়, আর ভাইরালতার চেয়ে সত্যই শেষ কথা।
লেখক: সাহিত্য সম্পাদক,  দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম
 

রিটেলেড নিউজ

তাজমিনের মৃত্যু: নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র?

তাজমিনের মৃত্যু: নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র?

আবদুল্লাহ মজুমদার : : রাতের নীরবতায় একটি মুঠোফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছিল বাবার কাছে পাঠানো মেয়ের শেষ আকুতি। নিজের অবস্থান...বিস্তারিত


সবাই সরকারপন্থী জাতীয়তাবাদী হলো কেমন করে?

সবাই সরকারপন্থী জাতীয়তাবাদী হলো কেমন করে?

আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি - সবাই হঠাৎ সরকারপন্থী জাতীয়তাবাদà...বিস্তারিত


চট্টগ্রামে ফাউন্ডার্স গেট টুগেদারে স্পন্সর হিসেবে জৌদ

চট্টগ্রামে ফাউন্ডার্স গেট টুগেদারে স্পন্সর হিসেবে জৌদ

মামুনুর রশিদ সেলিম : চট্টগ্রামে উদ্যোক্তাদের নিয়ে নেক্সট লিডার্সের ‘ফাউন্ডার্স গেট-টুগেদার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং সে...বিস্তারিত


ফটোকার্ডে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’: তকমার আড়ালের সত্য কোথায়?

ফটোকার্ডে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’: তকমার আড়ালের সত্য কোথায়?

আবদুল্লাহ মজুমদার : : ফেসবুকের দেয়ালে হঠাৎ একটি ছবি ভেসে ওঠে। পরিচিত কোনো মুখ—কখনো মঞ্চে, কখনো সভায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠাà¦...বিস্তারিত


 ক্ষমতার পালাবদল, শিল্পীর পরিণতি এবং গণতন্ত্রের মানদণ্ড

 ক্ষমতার পালাবদল, শিল্পীর পরিণতি এবং গণতন্ত্রের মানদণ্ড

আবদুল্লাহ মজুমদার : : ক্ষমতার আলো যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি তার ছায়াও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ইতিহাসের প্রতিটি রাজনৈতিক পা...বিস্তারিত


বাবা : ত্যাগে গড়া এক জীবনের ভিত্তি

বাবা : ত্যাগে গড়া এক জীবনের ভিত্তি

আবদুল্লাহ মজুমদার : : কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জীবন কোনো শিরোনামে ধরা পড়ে না, কোনো আলোচনায় দীর্ঘ হয় না; তবুও তাঁদের নীরব উপà¦...বিস্তারিত



সর্বপঠিত খবর

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

মন্ত্রণালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিডিএ-তে শিকড় গেঁড়েছেন হারুন!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ​সরকারি আদেশ মানেই যেন মগের মুল্লুক! গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বদলি আদেশকে তোয়াক্কা নà¦...বিস্তারিত


নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

নেশনস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি সালাহ-মানে

স্পোর্টস ডেস্ক : : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট লিভারপুলের জার্সিতে খেলেন দুজনেই। আক্রমণভাগে দুজনের রসায়নে অলরেড...বিস্তারিত



সর্বশেষ খবর